মিয়ানমারে ভূমিকম্পে মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৯০০। এখনো নিখোঁজ ২৭০ জন। তিনদিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত বের করতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারীরা। এমন অবস্থায় দেশটিতে এক সপ্তাহের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ মার্চ) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, এমন ভায়বহ পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক সরকার সোমবার থেকে সাতদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ সময়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

চীনের সিনহুয়া বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ওই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে মধ্য মায়ানমারের মান্দালেয় শহরে ধসে পড়া ভবন থেকে উদ্ধারকারীরা একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজনকে উদ্ধার করেছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের (সিসিটিভি) সম্প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, লাল হেলমেট পরা চীনা উদ্ধারকর্মীরা মান্দালেয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাঙা কংক্রিট ও ধাতুর স্তূপের মধ্য দিয়ে থার্মাল কম্বলে মুড়ে একজন জীবিত ব্যক্তিকে বের করে নিয়ে আসেন।

ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, বহুতল ভবনগুলো ভেযে স্তরে স্তরে স্তূপ হয়ে আছে।

সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল মান্দেলে অঞ্চলে ১৫শ’র বেশি ভবন ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে, এবং কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করতে কয়েকদিন সময় লাগবে।

এদিকে মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে অনেক দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো অভিযোগ করে বলছে, সামরিক বাহিনী ভূমিকম্পের পরও বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আবাসিক প্রতিনিধি আরনাউড ডি বেক রয়টার্সকে বলেছেন, ‘সংঘাত পরিস্থিতির কারণে ভুক্তভোগীদের কাছে সহায়তা নিয়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কিছু কিছু এলাকায় প্রবেশাধিকার পেতে অনেক নিরাপত্তাজনিত সমস্যার দেখা দিয়েছে।

এদিকে আফটারশকে বিধ্বস্ত থাইল্যান্ডের ব্যাংককেও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার ব্যাংককে একটি আকাশচুম্বী ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে কয়েকজন জীবিতকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে বেঁচে আছেন বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকটের মধ্যেও মিয়ানমারের শহর ও গ্রামগুলোতে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির সামরিক বাহিনী। বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) সামরিক জান্তার এমন কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—সেতু, মহাসড়ক, বিমানবন্দর ও রেলপথ—ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানবিক সহায়তার প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে। সংঘাতের ফলে দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে, ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

“আমরা মান্দালয় এবং নেপিদোর বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপে ভরা জনপদ দেখতে পাচ্ছি। মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে, তারা বাড়িতে ফিরতে পারছে না, এমনকি খাবার রান্নার সুযোগও পাচ্ছে না,” বলেছেন রেড ক্রস কমিটির এক প্রতিনিধি।।

তিনি আরও বলেন, “যেসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো আর আগের মতো সেবা দিতে পারছে না, উপরন্তু সেগুলো নতুন রোগীদের চাপ সামলাতেও হিমশিম খাচ্ছে।”